রংবেরং লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রংবেরং লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

একটি দুর্মুখ গদ্য : তৈমুর খান



একটি দুর্মুখ গদ্য
তৈমুর খান
 যৌবনের ভাষা
সাহিত্যে পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে এবং যশস্বী হওয়ার ক্ষেত্রে কি বড়ো বড়ো কবি-সাহিত্যিকদের তোষণ করার দরকার আছে ?

     প্রশ্নটি বহুদিন থেকেই মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। শুনেছি প্রতিটি পুরস্কারের পেছনেই একজন বড়ো সাহিত্যিকের কলকাঠি থাকে। তিনি সেটা না নাড়ালে খুব ভালো লিখেও নাকি কপালে পুরস্কার জোটে না। ওপার বাংলার একজন সুন্দরী সাহিত্যিক কতজন কবি-সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে তাঁর শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন তার হিসেব আমাদের জানা নেই। তবু সেইদিন অর্থাৎ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুর কিছু আগেই তাঁর নামেও নিজের সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। যদি তাঁর কথা সত্যি বলে মেনে নিই –— তাহলে মনে প্রশ্ন জাগে, এত লোকের সঙ্গে তিনি সম্পর্ক কেন গড়েছিলেন ?

কামালদা ~ পার্থ বসু



কামালদা
পার্থ বসু

                                             ( ১ )
  (নামের বানান ইংরেজিতে kamal. কমল পড়া যায়। কামালও। কমল থেকে কামাল হয়ে ওঠার একটি কষ্টের ইতিহাস আছে। পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক। কারাবাস এড়াতে ভাষা মতিনের নির্দেশে এক কাপড়ে দেশ ছাড়েন। রোমহর্ষক তাঁর জীবন। পাঠক শুনলে সহমত হবেন এঁর কাহিনী ছাড়া পূব বাংলার ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়।)

গরীব মানুষ ফড়িং খাই - পার্থ বসু



গরীব মানুষ ফড়িং খাই
পার্থ বসু
      ষাটের দশকের মাঝামাঝি। তখন আমার হস্টেল জীবন। থাকতাম কোলকাতা মাণিকতলার একটি হস্টেলে। বিবেকানন্দ রোড আর কর্নওয়ালিস স্ট্রীট ( এখন বিধান সরণী) এর মোড়ে। অক্সফোর্ড মিশন হস্টেল। কোলকাতার সবচেয়ে প্রাচীন প্রাইভেট হস্টেল। প্রেমাঙ্কুর আতর্থীর  মহাস্থবির জাতকে এর উল্লেখ আছে।  ইংরেজি ইউ আকারে বিন্যস্ত প্রতি তলায় ১৫ টি ঘর। সম্ভবত ৪০ টির মত ঘর আবাসিকদের জন্য। নীচের তলায় দারওয়ানের ঘর। হোস্টেলের ওড়িয়া রাঁধুনি বামুন আর কর্মচারীদের ঘর। তিনতলায় ফাদারের অফিস। ছাত্রদের জন্য প্রতি ফ্লোরে দুটি করে টয়লেট। নীচের তলায় ডাইনিং হল আর তার পিছনে আয়তাকার একটি একটানা বিশাল চৌবাচ্চা। দড়ি বাঁধা বেশ কয়েকটি বালতি।

ইচ্ছে-ঘুড়ির বাউল ~ শাখা নির্ভানা


ইচ্ছে-ঘুড়ির বাউল
শাখা নির্ভানা

১ম পর্ব

বহুদিন পরে একবার আমার সেই প্রিয় নদীর প্রিয় বালুচরের বায়ু সেবনের ইচ্ছা হলো। গেলাম সেখানে। পরনে রিপড জিনস, পায়ে জর্ডন স্নিকার। এই বেশে এখানে কেন! নিজের চরিত্র দোষে হয়তোবা। সবাই কেমন দূরে দূরে। আমি কি সবার পর হয়ে গেছি এই দেশে, এই বেশে! হঠাৎ করে বালুচরের সেই পুরানো নেড়ে বটগাছের তলায় কেনা গায়েনের সাক্ষাত। সেই শতচ্ছিন্ন কেনা বাউল। আমাকে দেখেই গান থামিয়ে পরম স্নেহে কাছে ডেকে বললো- সেখের পো, হাল কি? একখান সিগারেট দেও দিনি, তোমাগো সায়েবী সিগারেট।

বিশ্বজিত ভট্টাচার্য~ঘণ্টা খানেক সঙ্গে সুজন

হুমম্‌ মনে হচ্ছে তুমি বামপন্থী বা লিবেরাল। এইসব রকমারি তন্ত্র হল সিভিলাইজেশনের এক এক ধাপ। রাজতন্ত্র অবশ্যই খুব গোড়ার দিকের ধাপ। কিন্তু জিন জোন্স বলে এক ফরাসি দার্শনিক ভারি ইন্টারেস্টিং কথা বলেছেন। তার মতে, সিভিলাইজেশন শুরু হয়েছে সেই দিন থেকে যেদিন মানুষ প্রথম বেড়া বাঁধতে শিখেছে। মজার ব্যাপার হল, যে বেড়া বাঁধতে শেখে, সে কি শুধু জমিতে বেড়া বেঁধেই ক্ষান্ত হয় ভায়া, সব কিছুতেই বেড়া বাঁধে। যত বেশী বেড়া তত বেশী সিভিলাইজেশন। পশুপাখিরা বেড়া বাঁধাকে বলে বন্ধন, আমরা বলি উন্নয়ন। এখন সুখ কিসে, বন্ধনে না উন্নয়নে, সেটাতো সেই বলতে পারবে যে এর মধ্যে আছে। রাম লোকটা যুদ্ধ টুদ্ধ করে, রাবন কে মেরে, সীতাকে বনবাসে পাঠিয়ে একরকম প্যাসিভ লাইফ লীড্‌ করত। নায়ক হয়েও দর্শকের মত শুধু দেখে যেত। রাজা যদি যুদ্ধ টুদ্ধ না বাঁধায়, খাজনা না বাড়ায় তাহলে প্রজারা ভালই থাকবে। হ্যাঁ, কদ্দিন থাকবে সেটা একটা প্রশ্ন বটে ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

সোনালি পুপু~যৌনতা,প্রেম,তর্পণ ও অক্ষরেরা

ফুল যবে সাংগ করে খেলা ফল ধরে সেই। কত সহজে যৌনতার ব্যাকরণকে এক লাইনে আঁটিয়ে ফেলেছেন বৈজ্ঞানিক রবীন্দ্রনাথ। মানুষ আর তার শরীর নিয়ে পড়াশুনো করতে গিয়ে এইটাই বারেবারে বুঝলাম, আমরাও পশু। আর পাঁচটা জীবের সংগে জৈব চাহিদা গুলির কোন তফাৎ নেই। আহার, নিদ্রা, মৈথুন। বাকি সবই এর সাথে যুক্ত। এর জন্যেই ঘর বাড়ি, নানান বাহার। কিন্তু মৈথুন কার্যটি ঠিক নিজের জন্যেই নয়। প্রকৃতি আমায় ভোলাচ্ছে তার কাজ হাসিল করতে। সে আমার স্পিসিস-কে টিকিয়ে রাখতে চায়। নতুন প্রানী দরকার। তারই জন্যে ফুলে রং। রাতের সাদা ফুলে গন্ধ। ছেলে পাখির পালকে বাহার। পুরুষ সিংহের কেশর। পুং কোকিলকণ্ঠ মাধুর্য ভরা। মেয়েদের বুকভরা বাৎসল্য, শিশুর খাদ্য তার বীজপত্রে, ডিমে, মাতৃ দুগ্ধে। কীট পতংগ পশু পাখি.... সব মা, নিজের জীবন বিপন্ন করে ঝাঁপ দেয় সন্তানকে বাঁচাতে। সেই প্রবল ইন্সটিনক্টকেই সারা বিশ্ব মাতৃ শক্তি, মাদার গডেস বলে ইতিহাস জুড়ে প্রনাম জানিয়ে চলেছে।~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

সঙ্গীতা দাশগুপ্তরায় - বুদ্ধির্যস্য

পুজোর  ছমাস আগে থেকে শুনছি বাজার করছে, অথচ এখনও নাকি কিছুই কেনা হয় নি। আর এদেরও বলিহারি। লাখ লাখ স্টক ঝুলিয়ে রাখে দোকানে এদিকে ট্রায়াল রুম এই ক'টা।  ঢুকতে পারাটাই একটা চ্যালেঞ্জ। আর ঢুকল তো বেরনোর নাম নেই। ভাস্কর গজগজ করেশঙ্খ মজা পায়। এই অভিজ্ঞতা  ওর সম্প্রতি শুরু হয়েছে। যদিও ভূমির সাথে প্রেম বেশ কিছুদিনের। তবে এই ট্রায়াল রুমের বাইরে দাঁড়ানোটা বেশিদিন নয়।  প্রথমবার যখন এসেছিল,বেশ ভালোই লেগেছিল।  ফাঁকাও ছিল মোটামুটি । ভূমি একটা  করে কুর্তি পরে এসে দাঁড়াচ্ছিল উদ্গ্রীব চোখে তাকিয়ে। যেন শঙ্খর ভালো মন্দ লাগাটাই শেষ কথা।  ও হ্যাঁ বললে  হ্যাঁ না  বললে না...পরে অবশ্য ভুল ভেঙ্গেছে। বেশ কয়েকটা জামা শঙ্খর তেমন না লাগলেও ভূমি সেগুলোই নিয়েছে। তুমি নিজের পছন্দেই নেবে তো আমাকে দাঁড় করিয়ে রাখলে কেন? অভিমান করে বলেছিল শঙ্খ টিপিটিপি হাসছিল ভূমি... ওমা! রাগ হল বুঝি বাবুর! দাঁড় না করিয়ে উপায় কি! তোমার সঙ্গে সময় কাটাতে চাই এদিকে শপিং ও জরুরী। তাই তো তোমায় সঙ্গে আনলাম...~~~~~~~~~~~

শিমুল রায় সরকার - কিছু তিতকুটে স্মৃতিকথা

আমার যেটা বিরক্তির কারণ সেটা হল মানুষের হিপোক্রেসি। এই শব্দটা যদি শ্রীজাত কোন রগরগে কবিতায় ব্যবহার করতেন তাহলে কারো কিছু যায় আসতো না। তাহলে মোদ্দা কথা হল শব্দটা সবার কাছে অশ্লীল মনে হচ্ছে ধর্ম এসে যাওয়াতে। তাহলে বাবা অশ্লীল, অশ্লীল করে এতো চেল্লানোর কি আছে? এতো শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো অবস্হা হয়ে গেলো। আমি সবার সামনে বলবো আমি ধর্ম মানি না অথচ ধর্মের গায়ে একটু আঁচড় পড়লেই  রে রে করে উঠব। এটা কেমন তর কথা? আমি ধর্ম মানিনা,জীবনে কোনদিন কোন অশ্লীল শব্দও ব্যবহার করিনি। পরিচিত কেউ বললেও সাপোর্টও করিনা। কিন্তু কবি,সাহিত্যিকরা কি লিখবেন সেটা তাঁদের ব্যাপার । আমার ভালো না লাগলে আমি পড়ব না। ব্যাস ফুরিয়ে গেলো কথা। তা নিয়ে এত হইচই করার কি আছে বুঝিনা বাপু। অবশ্য আমি যে সব বুঝব এমন কোন মানে নেই। এইসব দেখে-শুনে আরো তিতকুটে লাগছে সবকিছু।  ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

শুভব্রত দাশগুপ্ত - প্রফেশনালিজম

মার কাছে থেকে ১০০টা টাকা ম্যানেজ করে বেরিয়ে পড়লাম। ব্যাঙ্কশাল কোর্টের সামনে এক শীর্ণ-বৃদ্ধ টাইপিস্ট মোটা চশমা সামলে এক-এক করে চারখানা Biodata খটাখট-খটাখট শব্দে বানিয়ে হাতেহাতে ধরিয়ে দিতে লাগলেন। আমারটা চোখের সামনে ধরতে, এক অভাবনীয় অনুভূতি আমাকে আচ্ছন্ন করল। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম - অনুপম ভাদুড়িপ্রথমবার দেখতে-দেখতে স্বরন করতে লাগলাম – Professionalism show করতে হবে!! হাঁটতে হাঁটতে ধর্মতলাতে এসে প্রথমবার বিফ-রোলেরস্বাদ পেলাম বাবু ভুরু নাচিয়ে বলল, ‘সব শিখতে হয়!!জিতু আর্তনাদ করে ওঠে, আমরা চমকে তাকাই, Biodataতে রোলের তেল গড়িয়ে এসে লেগেছে। মুখটা বিশ্রী করে বাবু বলে, ‘শালা! বলদ একটা!! নে, যা আবার টাইপ করে আন আমরা আর যাচ্ছি না!!~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~‍‍‍~

বেণীমাধবের হয়রানি * সঙ্গীতা দাশগুপ্ত রায়


ছবি এই ক'দিন ভাল মুখে কথা বলেনি। ভাতের থালা মুড়ির বাটি এমন ভাবে সামনে ধরে দিচ্ছে যে ভাত মুড়ি কোলে ছিটকে উঠছে। কাল দুপুরে দোকান থেকে ফিরে দেখে তপতপে মুখে সুটকেশ গোছাচ্ছে। এমন পরঢলানে পুরুষমানুষের ঘর করার থেকে বাপের ভিটেয় গিয়ে নাকি গলায় দড়ি দেওয়াও সম্মানের । রান্নাঘরের বার উঠোনে সকালে মধুকে দিয়ে পাঠানো পাকা জ্যান্ত রুইটা মরা কাঠ হয়ে পড়ে আছে। রান্নাবান্না কিছুই হয় নি। পর পর তিনটে প্রশ্ন একসঙ্গে বেণীর মাথায় ভিড় করে এল ... মাছটা এখনও বেড়ালে নেয় নি কি করে? দুপুরে খাওয়া দাওয়া কি আদৌ জুটবে না? আর সবচেয়ে মোক্ষম প্রশ্নটা হল গলায় দড়ি দিতে হলে বাপের বাড়ি গিয়ে কেন? ওদের গাঁয়ে কি বড় গাছ নেই! শেষ প্রশ্নটা ভেবেই বেণীমাধব নিজেকে দু গালে চড়াল। এসব কথাও মাথায় আসে এই আপৎকালে !~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

কালিদাসের কাল * সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

একটা দল নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন কালিদাস। নিজেই নাট্যকার, নিজেই নির্দেশক এবং অবশ্যই নিজে হিরো। চেহারাখানাও যে হিরো হবার মতনই ছিলো ভদ্রলোকের, সে গল্প তো আছেই। সেইরকমই ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে হাজির হলেন কুন্তল রাজ্যে। সে রাজ্যটা যে এগ্জ্যক্টলি কোথায় ছিলো, সঠিক করে এখন বলা মুশকিল। যতদূর সম্ভব, ডেকান প্ল্যাটোর দক্ষিণপশ্চিম দিকের খানিকটা অংশ কুন্তল রাজ্য নামে চিহ্নিত ছিলো। খুব বড় রাজ্য কিছু নয়। অন্তত পোলিটিক্যালি খুব সিগনিফিক্যান্ট কিছু নয়। কিন্তু শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা ছিলো সেখানে। শিল্পীর কদর ছিলো। তার উপর খবর ছড়িয়েছিলো, সেখানকার রাজকন্যার স্বয়ম্বর, এবং তিনি স্বয়ং নাকি রীতিমতন বিদ্যেবুদ্ধির পরীক্ষা নিয়ে তবে পাত্র নির্বাচন করবেন। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~