স্মৃতিতর্পন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্মৃতিতর্পন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বাংলা নাটকে মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান ~ ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়




বাংলা নাটকে
মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান
ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়


বাংলা নাট্যসাহিত্যের পিতৃপুরুষ বলে কাউকে যদি চিহ্নিত করতে হয় তবে নিশ্চিত ভাবেই তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত অথচ মধুসূদন কখনও বাংলা সাহিত্যের জন্য কলম ধরবেন তা তাঁর অতিবড় বন্ধুও ভাবনায় আনেন নি সেই আদিযুগের বাংলা ভাষার প্রতি মধুসূদনের বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না প্যারিচাঁদ মিত্রর (টেকচাঁদ ঠাকুর) চলিত ভাষায় লেখা প্রথম বাংলা উপন্যাস পড়ে মধুসূদন বলেছিলেন এ রকম ভাষায় জেলেরা কথা বলে, যদি না তুমি সংস্কৃত থেকে ভাষা গ্রহণ করো  (It is the language of the fishermen, unless you import largely from Sangskrit) প্রবল আত্মবিশ্বাসে মধুসূদন বলেছিলেন, ‘দেখবেন আমি যে ভাষা সৃষ্টি করবো তাইই চিরস্থায়ী হবে

ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞায় স্বতন্ত্র দুই ভূবন ~ রীনা তালুকদার



ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞায় স্বতন্ত্র দুই ভূবন
রীনা তালুকদার


রবীন্দ্র-নজরুল একজন বিশ্বকবি অন্যজন বিদ্রোহী কবি। দুইজনকে কেউ বড় বানায় কেউ ছোট বানায়। অদ্ভূত বাঙালী জাতির সন্তান আমরা। অথচ দুইজনই যুগের কাছে শ্রেষ্ঠ। যে বিষয়গুলো নজরুল-রবীন্দ্র পৃথক সেটি বিস্তর আলোচনার প্রয়াস রয়েছে। একই সাথে রবীন্দ্র যুগে জন্মগ্রহণ করেও রবীন্দ্র থেকে যেমন পৃথক তেমনটি অন্যদের চেয়েও নজরুল লেখনীর বৈশিষ্ট্যে পৃথক। ভাষা ব্যবহারের তীব্রতায় নজরুল নিজেকেই ছাড়িয়ে গেছেন। রৌদ্ররস ও বীররসের দারুণ অভিব্যক্তিতে নজরুলের সাহসী ও বীরত্বের ভাষা সহজেই বোঝা যায়। তিনি একই অর্থ প্রকাশক সমার্থক শব্দ বাক্যের গুণাবলী ঠিক রেখে অত্যন্ত সাবলিল ভাবে ব্যবহার করেছেন। এটি একজন দক্ষ শিল্পীর পক্ষেই কেবল সম্ভব। তিনিই প্রথম কবিতায় রঙীন চিত্রকল্প ব্যবহার করে কবিতার আঙ্গিক বদলে দিয়েছেন যা তাকে রবীন্দ্র ও তার যুগের সবার থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্য দান করেছে। তিনিই প্রথম সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় কবিতায় লিখেছেন যা আর কেউ করেনি। বিশেষ করে হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির পুরাণ, ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে কাব্যের বৈশিষ্ট্যে উন্নীত করেছেন। তিনি বলেছেন :

নজরুল ও রবীন্দ্রনাথ - পারমিতা চক্রবর্ত্তী



নজরুল ও রবীন্দ্রনাথ
পারমিতা চক্রবর্ত্তী

বৈশাখ মাস মানে ঈশ্বরীয় মাস৷ এই মাসেই রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মত উজ্জ্বল নক্ষত্রদের সমাবেশ ঘটে৷ কবিপক্ষে নজরুল ও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কারপান তখন কাজী নজরুল ইসলামের বয়স মাত্র ১৪ বছর। বাংলা সাহিত্যের এই দুই মহান কবির মধ্যে যে গভীর সুসম্পর্ক ছিল তা আমাদের অনেকেরই জানা।

বিজ্ঞাপনের সেকাল একাল ~ ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়


বিজ্ঞাপনের সেকাল একাল
ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

একালে বিজ্ঞাপনএর কথা অমৃত সমান শেষ হবার নয় । বিনোদনের জন্য টেলিভিষন খোলার জো নেই, রেডিওতে কান পাতার উপায় নেই, আর খবরের কাগজের প্রথম পৃষ্ঠাটাতেও পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন । দুধে জল মেশানো না জলে দুধ মেশানোসেটা বোঝা যেমন মুস্কিল হয়, তেমনই বোঝা যায় না খবরের সঙ্গে বিজ্ঞাপন না বিজ্ঞাপনের সঙ্গে কিছু খবরের টুকরোএখন তো গণিকা, কলগার্লরাও দেহ বিক্রির বিজ্ঞাপনেও আমাদের অভ্যস্ত করিয়ে দিয়েছে । নারী-সঙ্গ ভোগের হাতছানি । যার নাম সাহসী সম্পর্ক স্থাপন বা বোল্ড রিলেসনএকালের কথা থাক, সে কালের কথা বলি ।

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়~নাট্যমঞ্চের তিন দীপ্তিময়ী

নাট্যাভিনয়ে মেয়েদের অংশগ্রহণের পথটা মোটেই মসৃন ছিল না দুশো বছর আগের বাংলার সমাজ মেয়েদের গান করা বা নাট্যাভিনয় করা অনুমোদন করতো না  রুশ যুবক গেরেসিম লেবেদেফের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গলি থিয়েটারে ১৭৯৫এর ২৭শে নভেম্বর কাল্পনিক সঙ বদলনামে যে প্রহসনটি মঞ্চস্থ করেছিলেন সেটিই বাঙালির প্রথম নাট্যাভিনয় লেবেদেফের ভাষা শিক্ষক গোলকনাথ দাস কলকাতার বারাঙ্গণা পল্লী থেকে তিন বারাঙ্গনা কন্যাকে সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন সেই নাটকে নারী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আমাদের জানার কোন উপায় নেই কারা ছিলেন বাংলা নাটকের প্রথম নারী অভিনেত্রী কিংবা কেমন ছিল সেই অভিনয়! বাঙালির সেই প্রথম নাট্যাভিনয় কোন ধারাবাহিকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। ইংরেজরা লেবেদেফের থিয়েটার পুড়িয়ে দিয়ে তাকে সর্বশান্ত করে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল পরের ৩৮ বছর বাঙালির কোন নাট্যাভিনয়ের সংবাদ পাওয়া যায় না  ইতিহাস লেবেদেফকে বাঙালির প্রথম নাট্যাভিনয়ের সূচনাকর্তার স্বীকৃতি দিয়েছে আরো একটি কারণে সেই থিয়েটার ঐতিহাসিক স্বীকৃতির দাবি রাখে তা হল বাংলা নাট্যাভিনয়ে মেয়েদের অভিনয়ের অপরিহার্যতা, যার জন্য পরবর্তী আশি বছর সমাজপতিদের রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছিল~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ইমাম গাজ্জালী~মহান অক্টোবর বিপ্লব প্রসঙ্গে


অক্টোবর বিপ্লবের ফলভোগীও সারাবিশ্ব কিন্তু অক্টোবর বিপ্লব কার্যত অসমাপ্ত বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ উচ্ছেদের মধ্যেই অক্টোবর বিপ্লবের বিজয়ী হওয়ার শর্ত নিহিত ছিল বড় ধরণের ঝড় তুললেও পরিণতির দিকে যাওয়ার আগেই সেটা দিকভ্রান্ত হয়ে মিলিয়ে যায় পৃথিবী ফের চলে যায় পুরোনো জায়গায় অক্টোবর বিপ্লবের পশ্চাদপসরণের কারণে বিশ্বব্যাপী একচেটিয়া সাম্রাজ্যবাদ, একচেটিয়া শোষণ, একচেটিয়া আধিপত্য লুটতরাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শোষণ-লুটতরাজ চলছে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে আরো বেশি, আরো হিংস্র, আরো নিষ্ঠুর, আরো বর্বরোচিতভাবে নানা ছল-ছুতোয় চলছে যুদ্ধোন্মাদনা, সেই সঙ্গে ধর্মীয় উন্মাদনা নির্যাতন, হত্যা, গুম, খুন চলছে বিচারহীনভাবে গণতন্ত্র বাকস্বাধীনতা হরণ, নতুনরূপে ফ্যাসীবাদ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ফলে যে কারণে অক্টোবর বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, তার আবেদন এতটুকু ফুরায় নি বরং তা অনুভূত হচ্ছে আরো শতগুণে~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

সুমনা পাল ভট্টাচার্য~শ্রদ্ধার্ঘ

সম্ভবত: গৌরীকেদারই একমাত্র শিল্পী যিনি একই সঙ্গে তিনটি নামে রেকর্ড করতেন। স্বনামে বাংলা আধুনিক গান, ‘গোলাম কাদেরনামে গজল, ইসলামী গান ও বাংলা কাওয়ালি এবং সুকুমার ভট্টাচার্যনামে পল্লীগীতি। শিল্পীর হিন্দী ও উর্দু উচ্চারণ ছিল প্রশংসার যোগ্য। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা পরবর্তীতে তাঁর স্মৃতিচারণায় শোনা, একবার লক্ষ্ণৌ এর মুসলিম এসোসিয়েশন থেকে চিঠি আসে যে তারা গোলাম কাদেরকে সম্বর্ধনা দিতে চান। তাঁর অসংখ্য গুণমুগ্ধ, ভক্তের একান্ত ইচ্ছে তাঁকে সম্বর্ধনা দিয়ে সম্মানিত করার।
শিল্পী নাম, যশের উর্ধ্বে এতোটাই বলিষ্ঠ ও সৎ ছিলেন যে তিনি গ্রামাফোন কোম্পানি কে তৎক্ষণাৎ বলেন, তাঁর আসল পরিচয় ওই মুসলিম এসোসিয়েশন কে জানাতে, কোনোভাবেই কোনো ছলনাতেই তিনি সম্মানের সহজ পথ বেছে নেন নি। ১৯৪১এর মে মাস। প্রণব রায়ের কথায় ও সুকৃতি সেনের সুরে তাঁর সুপার ডুপার হিট রেকর্ড  কতদিন, কতদিন তুমি কাছে নাই।এরপর থেকেই গ্রামাফোন কোম্পানি তাঁকে রয়ালটি দেওয়া শুরু করে।~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় - বাংলা সিনেমার ত্রয়ী সত্যজিৎ - ঋত্বিক – মৃণাল

সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক এবং মৃণাল সেন ভারতীয়  চলচ্চিত্রের তিনটি পৃথক ঘরানা । সত্যজিৎ রায় বাস্তবের চলচ্চিত্রভাষ্য নির্মাণ করেন সাহিত্যকে আশ্রয় করে, ঋত্বিক ঘটকের সিনেমায় দেশ বিভাগের যন্ত্রণা, ক্রোধ আর মৃণাল সেনের সিনেমায় কঠোর বাস্তবের সঙ্গে যৌবনের স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নকে নিংড়ে নেওয়া চিত্রভাষ্য, আর্থ-সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত থেকে মানুষের সংকটময় রূপের বিশ্লেষণ । জীবনঘনিষ্ঠ গল্পের সঙ্গে সিনেমার আর্টের সমস্ত দিকগুলির সংমিশ্রণ মৃণাল সেনের সিনেমায়, ছবির গল্পের তলে আর এক স্তরের গল্প বলেছেন যেন তাঁর সিনেমায় । শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলি বুঝতে চেয়েছেন নিজের মত করে আর ধরে রেখেছেন তাঁর সিনেমায় । ঋত্বিক ঘটক চলে গেছেন ১৯৭৬এ, সত্যজিৎ রায় ১৯৯২এ, ৯৪ বছরে পা দিয়ে মৃণাল সেন এখনও রয়েছেন আমাদের মধ্যে । শেষ ছবি করেছেন আমার ভুবন২০০২এ । জীবন ও শিল্পের অবিরাম প্রবাহ বয়ে চলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে । ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

গণনাটকের ভগীরথ * ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

পূর্ববর্তী একশবছরের সনাতনী নাট্য ও মঞ্চের প্রয়োগভাবনার ওলট পালট ঘটিয়ে নবান্নহয়ে গেল বাংলা নাটক ও মঞ্চের এক মাইলফলক আজও অসংখ্য গ্রুপ থিয়েটার সেই ধারারই উত্তরাধিকার বহন করে যার প্রথম পুরোহিত বিজন ভট্টাচার্য তাঁর নাট্যনির্মাণ দিয়েছিল নতুনতর নাট্যভাষা সনাতনী শিল্পের জন্য শিল্প’-অনুগত সাহিত্যভাবনা পরিবর্তিত হয়ে গেল নতুনতর স্লোগানে – ‘শিল্প হবে মানুষের জন্য গণনাট্য সঙ্ঘ থেকেই বিজন অট্টাচার্যের পাশাপাশি উঠে এসেছিলেন এক অসামান্য প্রয়োগশিল্পী ও অভিনেতা শম্ভূ মিত্র গণনাট্যের আদর্শে দিক্ষিত হয়ে উঠে এসেছিলেন আরো দুই অসামান্য প্রয়োগশিল্পী ও অভিনেতা উৎপল দত্ত ও কিছু পরে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন জনের কেউই গণনাট্যসঙ্ঘের সাংগঠনিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকেননি শেষ পর্যন্ত শম্ভূমিত্র ১৯৫০এ গঠন করলেন বহুরূপী’, উৎপল দত্ত লিটল থিয়েটার গ্রুপ’ (১৯৫০) ও অজিতেশ গঠন করলেন নান্দিকার’(১৯৬০)
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~