মুখোমুখি সুধাংশু রঞ্জন সাহা



মুখোমুখি সুধাংশু রঞ্জন সাহা


সম্পাদক রংরুট: সকলের আগে ত্রৈমাসিক রংরুটের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। রংরুটের এই বিশেষ সংখ্যায় আপনাকে স্বাগতম। আপনার লেখালেখির পরিধি মূলত কাব্যসাহিত্য কেন্দ্রিক। কবিতার প্রতি এই বিশেষ আগ্রহের সূত্রপাত ঠিক কিভাবে?

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: নমস্কার। আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই । ধন্যবাদ জানাই, সাক্ষাৎকারের জন্য আমাকে নির্বাচন করার জন্য । কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাগাজিনে কবিতা লেখা দিয়ে সূত্রপাত হয়েছিল আমার লেখালেখির । তারপর গ্রুপ থিয়েটার ( শাওলি মিত্র নির্দেশিত পঞ্চম বৈদিক ) এর সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে থিয়েটারের জন্য নতুন করে কবিতার প্রেমে পড়া এবং কবিতা আবৃত্তির চর্চা ।  এই রকম একটা সময়ে আমি ট্রান্সফার হয়ে চলে যাই গ্যাংটকে । ফলে আমার নাট্যচর্চা স্তব্ধ হয়ে যায় । সেই সময়েই কবিতার কাছে আত্মসমর্পণ আমার। কবিতাকে আঁকড়ে ধরে থিয়েটার না করতে পারার কষ্ট ভুলে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা ।



 সম্পাদক রংরুট: আমরা জানি কবিতা প্রকাশের বিষয়ে আপনি খুবই যত্নশীল একজন মানুষ। নিজের সৃজনশীলতার বিষয়ে অত্যন্ত বেশি রকমের নিষ্ঠাবান না হলে এই যত্নশীলতা অর্জিত হয় না। এই বিষয়ে আমরা জীবনানন্দ দাশের কথা স্মরণ করতে পারি। প্রতিটি কবিতার পিছনে আপনার যে পরিশ্রম যে অধ্যাবসায় ও যত্নশীলতা বর্তমান, তার অনুপ্রেরণার উৎস কি?

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: থিয়েটার আমাকে শিখিয়েছে শিল্পের জন্য কীভাবে নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক হতে হয় । থিয়েটারের এই শিক্ষাই কবিতার জন্য আমার অনুপ্রেরণা । যে কোন সৃজনশীলতাই দাবি করে পরিশ্রম এবং অধ্যাবসায়, আমি বিশ্বাস করি । অফিসের জন্য আমাকে প্রচুর প্ররিশ্রম করতে হতো। ভালোবেসেই করতাম । তবু, অফিসের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিত কবিতা। কবিতাই আমাকে যোগাতো বাড়তি অক্সিজেন । আমার সমস্ত বিষণ্নতায় এবং হতাশায় কবিতাই আমাকে দিয়েছে আশ্রয় । দিয়েছে প্রশ্রয় । জুগিয়েছে বেঁচে থাকার সমস্ত রঙ- রস ।


সম্পাদক রংরুট:  এই প্রসঙ্গে জানতে চাইবো কবিতার কাঠামোগত দিকের বিষয়ে একজন কবির, নৈর্ব্যক্তিক ও শৈল্পিক ধ্যানধারণা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন কি আপনি? কবির ব্যক্তিগত আবেগকে সাহিত্যের নান্দনিকতায় বিকশিত করতে যা খুবই মূল্যবান? না’কি কবিতা মূলত আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র? অনেকেই যেমনটা দাবি করেন আজকাল।

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: সারা পৃথিবী জুড়েই কবিতার কাঠামো নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে, এখনও হচ্ছে । আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এই বিষয়ে একজন কবির নৈর্ব্যক্তিক ও শিল্পিত ধ্যানধারণা থাকা খুবই জরুরি। কবিতার মতো সংবেদনশীল একটি শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে আবেগের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু কোন কবিতা যদি সম্পূর্ণ আবেগসর্বস্ব হয়, তাহলে সেই কবিতা থেকে কখনও জীবনের আলো উঠে আসতে পারে না। কবিতা নির্মাণের ক্ষেত্রে আবেগকে সংহত রাখাটা খুবই জরুরি বলে আমার মনে হয় ।


সম্পাদক রংরুট: আপনার কবিসত্তার ভরকেন্দ্র শাশ্বত মানবিক সংবেদনশীলতায় না’কি নির্মোহ দার্শনিক বিশ্ববীক্ষায়? কবিগুরু বলতেন, তিনি দার্শনিক নন। তিনি কবি। দর্শন ও সাহিত্যের ভিতর একটি দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়ের পালা চলতে থাকে। অন্তত রবীন্দ্রকাব্যের বিবর্তনের দিকে লক্ষ্য রাখলে বিষয়টি দেখা যায়। এই বিষয়ে আপনার ব্যক্তিগত অভিমত। জানতে চাইছি বিস্তারিত আলোকপাতে।

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: আমি নিজেকে একজন সংবেদনশীল মানুষ বলেই মনে করি । আমি কোন ঘোষিত দার্শনিক নই । জীবন হলো নানা রকম দ্বন্দ্বের এক অদ্ভুত সমন্বয় । সেই দ্বন্দ্বে কখনও কখনও দর্শন ফুটে ওঠে হয়তো । অস্বীকার করা যায় না । কিন্তু কবির কাজ জীবনের উপর বিভিন্ন দিক থেকে আলো ফেলে জীবনের দ্বন্দ্বকে স্পষ্ট করে কবিতায় প্রকাশ করার তাগিদকে বাঁচিয়ে রাখা। সেই লক্ষ্যেই আমার এই পথচলা । জীবনের নানা প্রেক্ষিতে কখনও দ্বন্দ্ব, কখনও সমন্বয়ের যে দোলাচল চলতে থাকে, সেখান থেকেই আমি সংগ্রহ করি কবিতার রসদ ।


সম্পাদক রংরুট: সাহিত্যসাধনা বা কাব্যচর্চার প্রসঙ্গে কবি  জীবনানন্দ পরিচ্ছন্ন কালজ্ঞান ও সুস্পষ্ট ইতিহাসচেতনার উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। সাহিত্য সাধনার ক্ষেত্রে একজন কবির জন্য এই পরিচ্ছন্ন কালজ্ঞান ও ইতিহাসচেতনা কতটা জরুরী বিষয় বলে মনে করেন আপনি? আপনার নিজের কবিতায় এই বিষয়গুলি
কতটা প্রাসঙ্গিক ও কিভাবে দেখা দেয়?

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: যে কোন শিল্পী কিংবা কলাকুশলী, বিশেষ করে সৃজনশীল মানুষেরই সময় এবং ইতিহাসচেতনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকাটা খুবই জরুরি বলে আমার মনে হয় । কারণ ইতিহাস ও কাল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলে, তার পক্ষে ভাষা ও সংস্কৃতির রূপরেখা চিহ্নিত করা খুবই কঠিন কাজ হবে । আমার লেখাতে সময় এবং ইতিহাসচেতনা সহ সমাজ ও প্রকৃতি উঠে এসেছে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে ।এটা ষ্পষ্ট করেই বলা যায় । কালচেতনা এবং ইতিহাসজ্ঞান খুবই প্রাসঙ্গিক আমার কবিতায় ।  আমার পঁচিশ / ত্রিশ বছর আগে লেখা কোন কবিতায় পাঠকের সুষ্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখেই এটা আমি অনুভব করতে পারি ।


সম্পাদক রংরুট: মহাকবি টি এস এলিয়টের ভাষায়, “No poet, no artist of any art, has his complete meaning alone. His significance, his appreciation is the appreciation of his relation to the dead poets and artists.  You cannot value him alone; you must set him for contrast and comparison among the dead.”  আপনিও কি এলিয়টের মতো এই মতে বিশ্বাসী? আপনার নিজের কাব্য সাধনায় কতটা সত্য এই দর্শন? অর্থাৎ আপনার কবিতার পাঠককেও কি আপনার কবিতা অনুধাবনে এই পথেই অগ্রসর হতে পরামর্শ দেবেন আপনি?  না’কি আপনার অবস্থান কিছুটা ভিন্নমাত্রায়।

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: কবি টি.এস.এলিয়টের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলতে চাই, একজন কবি মূলত এই সমাজেরই একজন মানুষ । হোঁচট খেতে খেতে তার বেড়ে ওঠা, সোজা হয়ে দাঁড়ানো । সব সজনশীল মানুষই তার আশপাশ নিয়ে বেড়ে ওঠে । বেড়ে ওঠে সমাজ, সংস্কৃতি নিয়ে । ইতিহাস, অতীত বর্তমান নিয়ে। সুতরাং একজন প্রকৃত কবির চেতনে, অবচেতনে তার কলমে ফুটে ওঠে ইতিহাসচেতনা, সময়চেতনা এবং সমাজচেতনার নানা অভিজ্ঞতার টুকরো টুকরো ভাষ্য । আমি বিশ্বাস করি, আমার পাঠকও তাদের অভিজ্ঞতার আলোয়, অর্জিত জ্ঞানের আলোয় বিচার করবেন আমার লেখা । আমার প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় দিক্ষিত পাঠকের প্রতি আমার কোন হুইপ বা নির্দেশনামা নেই। আছে তাদের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং আস্থা । তারা সময়ের কষ্টিপাথরে পর্যালোচনা করবেন আমার লেখার । আমি আশাবাদী ।


সম্পাদক রংরুট: ইংল্যাণ্ডজাত মার্কিন কবি ডবল্যু এইচ অডেন গভীর ভাবে বিশ্বাস করতেন, একজন কবি সবিকিছুর আগে সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর ভাষার প্রেমে পড়ে গিয়েছেন। আমাদের এত ভালোবাসার এত দুর্দশা পীড়িত তবুও সংগ্রামী বাংলা ভাষার একজন কবি হিসাবে এই বিষয়ে আপনার অবস্থান সম্বন্ধে যদি আলোকপাত করেন স্পষ্ট ভাবে। কবিতা কি সত্যই এমন নিবিড় ভাবে বিশেষ কোন ভাষা নির্ভর হতে পারে? না’কি অডেনের এই মতকে আমরা কবিতার নিজস্ব ভাষা বলে ধরে নেবো। যেমন চিত্রশিল্পের ভাষা, চলচিত্রের ভাষা ইত্যাদি।

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: একজন লেখকের যদি ভাষার প্রতি দরদ না থাকে, ভালোবাসা না থাকে তাহলে তিনি সাহিত্যচর্চা, ভাষাচর্চা করবেন কি করে ! ব্যক্তিগতভাবে আমি বলতে পারি লেখালেখির অনেক আগে থেকেই আমার মাতৃভাষার প্রতি আমি আকৃষ্ট হই । কারণ এই ভাষাতেই আমার কথা বলা, কথা শোনা, সবার সঙ্গে আমার যোগসূত্র স্থাপন, যোগাযোগের সেতু নির্মাণ সবই এই ভাষার দৌলতে । অতএব, আমার আজ যতটুকু পরিচিতি, সবই কিন্তু আমার মাতৃভাষা বাংলার জন্য । আমি এই বাংলাভাষার কাছে চিরঋণী । এই বাংলাভাষার জন্য বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন, জেল খেটেছেন, অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এই কথা কীভাবে বিস্মৃত হই ! তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বাংলাভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে । এর চেয়ে বড় গৌরবের আর কিছুই নেই । বাংলাভাষা তার সমস্ত দুরাবস্থা কাটিয়ে উঠবে, আমার বিশ্বাস । সারা পৃথিবীতে প্রায় সাতাশ কোটি মানুষ যে ভাষায় কথা বলে, সেই ভাষার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবেই হবে । কাব্যসাহিত্যের নিবিড় উচ্চারণ বাংলাভাষাকে সুদৃঢ় উচ্চতায় প্রতিষ্ঠা দেবে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস । আমি নিজেকে এই প্রয়াসের একজন সামান্য সৈনিক মনে করি।


সম্পাদক রংরুট: ভাষার প্রসঙ্গই যখন উঠলো, তখন বিশেষ করে জানতে ইচ্ছা করছে আমাদের এই বাংলাভাষা আপনার ব্যক্তিগত জীবনসত্যের সাথে ঠিক কিভাবে জড়িয়ে আছে? না, শুধু মাত্র কবিতা লেখা বা সাহিত্যসাধানার একটি মাধ্যম হিসাবে নয়। একজন অনুভুতিশীল সচেতন বাঙালি হিসাবে।

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই পূর্বের প্রশ্নের জবাবে আমি দিয়ে দিয়েছি । সেটা পুনরাবৃত্ত করার মানেই হয় না । একটা কথা ষ্পষ্ট করেই বলতে চাই, বাংলাভাষা আমার সাহিত্যচর্চা সহ জীবনচর্যার পরতে পরতে মিশে আছে।  এর থেকে আমি কোনভাবেই নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবো না । আমার সৃজনশীলতা যেমন আমার রক্তের সঙ্গে মিশে আছে, ঠিক তেমনি বাংলাভাষা ও সংস্কৃতিও আমার জীবনসত্যে দ্রবিভূত হয়ে আছে । কোনভাবেই জীবন থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয় । সৃজনে,মননে বাংলাভাষা আজ আমার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ । এক মুহুর্তও আমার পক্ষে এই বৃত্তের বাইরে থাকা অসম্ভব । একজন সংবেদনশীল সচেতন বাঙালি হিসেবে আমার মাতৃভাষা বাংলার জন্য আমি গর্বিত এবং আন্তরিকভাবে একজন ভাষাশ্রমিক হিসেবে দায়বদ্ধ।


সম্পাদক রংরুট: সাহিত্য দর্শন বিজ্ঞান প্রযুক্তির বিবর্তনের পথে আমরা যে অনেক দূর এগিয়ে এসেছি, সে কথা হয়তো বলাই যায়। কিন্তু সমাজ সংসার বিবর্তনের পথে বিগত দুই হাজার বছরের হিসাবটুকুই যদি ধরি খৃষ্টাব্দের সূত্রে- তাহলে সত্যই কতটুকু এগোলো মানুষের সমাজ সংসার সভ্যতা? আপনার মূল্যায়ন।

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে মানব সভ্যতার অনেক আগ্রগমন ঘটেছে, এ-বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই । কিন্তু গত সত্তর আশি বছরের শিল্পবিপ্লব সমাজকে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে, তার মধ্যে মিশে আছে অনেকটাই মিথ্যে এবং মারাত্মক দূষণের বিস্তার । এই করোনাকালে যা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি । এখন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, সত্যিই কি মানব সভ্যতার কোন উন্নতি হলো, নাকি অবনমন ঘটলো !  এই প্রশ্নের জবাবে একটা উত্তর দেওয়াই যায় তা হলো মাত্র সত্তর আশি বছরের শিল্পায়ন প্রায় দু'হাজার বছরের অগ্রগতির রাশ টেনে ধরেছে । গ্লোবাল ওয়ার্মিং এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে উত্তর, দক্ষিণ গোলার্ধে বরফ গলছে দ্রুত । ফলে সমুদ্রের জল ফুলেফেঁপে উঠছে ক্রমশঃ । পৃথিবী ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে । নানারকম মহামারি, সুনামি,আয়লা, আমফান, ভূমিকম্পের পর ভূমিকম্প পৃথিবীকে নাস্তানাবুদ করে চলেছে সর্বক্ষণ । এই ধ্বংসের হাত থেকে কি মানব সভ্যতাকে বাঁচাতে পারবে বিজ্ঞান ? এই প্রশ্ন আজ সবার । সভ্যতা সত্যিই এক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি । সর্বত্রই এক সন্দেহের বাতাবরণ ।


সম্পাদক রংরুট: সবশেষে এসে জানতে চাইবো আপনার ব্যক্তিগত সাহিত্য সাধনার পাশাপাশি সমসাময়িক কার কার কবিতাচর্চা আপনাকে বিশেষ ভাবে উদ্বুদ্ধ করে, যেখান থেকে বাঙলা কাব্যসাহিত্যের অদূর ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে আপনি প্রবল ভাবে আশাবাদী ভুমিতে অবস্থান করতে পারেন।

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: সমাজ এখন অসাধুতা এবং দ্বিচারিতায় ভরে গেছে । সাহিত্য, সংস্কৃতির অঙ্গনও এই রোগ থেকে মুক্ত নয় । ফলে সাহিত্যচর্চা যারা করেন তারাওতো এই সমাজেরই অংশ এবং তাদের অধিকাংশই এই রোগে আক্রান্ত । এই রোগ থেকে যারা মুক্ত আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবি শঙ্খ ঘোষ, কবি আলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত প্রমুখ । কবি শঙ্খ ঘোষের কাব্যচর্চা এবং তার জীবনচর্যা আমাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ  করে । সমসাময়িক কবিদের মধ্যে কবি জহর সেন মজুমদার, কবি ধীমান চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করা যেতে পারে । আর শূন্য দশক বা তার পরবর্তী দশকের বেশ কিছু কবি যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে কবিতা লিখতে এসেছেন । তারাই বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ । তারাই বাংলা সাহিত্যেকেএগিয়ে নিয়ে যাবে, আমি আশাবাদী ।
ধন্যবাদ । নমস্কার ।

সুধাংশু রঞ্জন সাহা: জন্ম ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৭ । বিজ্ঞান, কলা ও আইন -এ স্নাতক এবং বিজ্ঞান ও ম্যানেজমেন্ট - এ স্নাতকোত্তর। স্টেট ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক। একসময় গ্রুপ থিয়েটার এবং ট্রেড ইউনিয়ের সাথে দীর্ঘদিনের সংযোগ। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সাল থেকে বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে কবিতা, ছোটগল্প, ছড়া, প্রবন্ধ আর বিদেশী কবিতা অনুবাদ করে সময় কাটিয়েছেন। আজও অজস্র লিটলম্যাগে লেখা ছাড়াও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা : চোদ্দ, ছড়াগ্রন্থ: এক এবং গল্পগ্রন্থ : এক। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: অপহৃত রাত্রির চর্যাকথা, নিরুত্তর তারার স্বপ্ন, পূর্বাভাস, পাগল চাকা ঘুরছে অবিরাম, একা দুপুর, শ্রেষ্ঠ প্রেমের পদ্য, উপেক্ষিত সকালের মেঘলা সনেট, সময়ের এস্রাজে বেজে যায় অবুঝ দুপুর, শ্রাবণের নিরিবিলি মেঘ ব্যারাকে... ইত্যাদি । সম্পাদিত পত্রিকা : অন্যসাম্পান, সোনারতরী।

কপিরাইট রংরুট কর্তৃক সংরক্ষিত


1 টি মন্তব্য:

  1. সুধাংশু, পড়লাম। তুমি যে গ্রুপ থিয়েটার / শাওলি মিত্রর পঞ্চম বৈদিক এসবের সঙ্গে যুক্ত ছিলে , তা জানতাম না। ভালো লাগলো।

    উত্তরমুছুন