বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০১৭

রওশন আরা বেগম - বাংলাদেশ ও শিক্ষা পরিকাঠামো


শিক্ষার জগতে নিয়ন্ত্রনহীনতা আমাদের তাহলে কোথায় নিয়ে যাবে? যে শিক্ষা ব্যবস্থা আমি নিজের জন্যে কোন কালে কল্পনা করিনি, তা আমার ছেলেমেয়েদের জন্যে বা আগামী প্রজন্মের জন্যে আমি কিভাবে মেনে নেব? যে শিক্ষা শুধু নিজের একটা পেশা তৈরীতে সাহায্য করে সেই শিক্ষার কোন মুল্য নেই। এই শিক্ষা শুধু স্বার্থপর ব্যক্তিগত উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সমাজ ও পৃথিবীর কোন কাজে আসে না। এই রকম একটি শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশে চালু হয়েছে। তাই ওই শিক্ষার মাধ্যমে মানবিক মানুষ তৈরীর পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এই কারনেই হয় তো রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে, আভ্যন্তরিন ভোক্তার প্রতিযোগিতা বেড়েছে, শোষনের মাত্রাও তীব্র হয়েছে। এই সবই আমাদের শিক্ষার মাধ্যমে এসেছে। তাই মানব উন্নয়ন বলতে যা বোঝায় তা কিন্তু হচ্ছে না, যা হয়েছে তা হলো মানব শোষনের বিভিন্ন হাতিয়ারের উন্নয়ন। শিক্ষা লাভের অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি। কোন কোন দেশে মানুষের এই অধিকারটি সম্পুর্ন রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রীত হয়ে থাকে। আবার কোন কোন দেশে এই নিয়ন্ত্রনটা কিছুটা শীতিল। উন্নত সামান্য কয়েকটি দেশে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে বানিজ্যকরন মুক্ত করে এটিকে সম্পুর্ণ ভাবে নাগরিক মৌলিক অধিকারের মধ্যে আনতে পেরেছে।  ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~


বাংলাদেশ ও শিক্ষা পরিকাঠামো
রওশন আরা বেগম

:এক”

বেশ কয়েকদিন যাবত বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর খোজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছি। এই খোজ খবরগুলো মানুষের মাধ্যমে নিতে পারিনি, নিয়েছি অন-লাইনে। সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, বহুরকম শিক্ষা ব্যবস্থা দাড়িয়ে গেছে দেশে শুধুমাত্র বানিজ্যের কারণে। কানাডার সমতুল্য কোন শিক্ষা ব্যবস্থা আছে কিনা জানি না, তবে ফুলে ফেপে বড় হয়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বলছে, আমাদের প্রতিষ্ঠান বিশ্বের উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমতুল্য। ঐসব প্রতিষ্ঠানে কিছু বিদেশী নাগরিকও দেখতে পেলাম, যাদের বেতন আকাশচুম্বী। কানাডার হাইস্কুলের মত এখানে AP (Advanced Placement), IB (International Baccalaureate)-ইত্যাদি বিশেষায়ীত প্রগ্রাম ও দেখতে পেলাম। অবশেষে টিউশন ফি সম্পর্কে তথ্য নিতে গিয়ে বড় রকমের হোচট খেলাম। গ্রেড টেনের একটা ছাত্র বা ছাত্রীর বার্ষিক টিউশন ফি ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মার্কিন ডলার। এটি আবার টাকায় দিলে হবে না, ডলারে দিতে হবে। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমান দাড়ায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা। এখন আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে- বাংলাদেশের মত একটা উন্নয়নশীল দেশে কিভাবে এমন এক বা একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারলো? যে শিক্ষা ব্যবস্থা কানাডায় বিনা পয়সায় দেয়া হয়, সেই শিক্ষার সাইন-বোর্ড ধরে কিছু মুনাফা লোভী মানুষ দেশে বানিজ্য করছে। দরিদ্র দেশে এর সঙ্গে কিছু বিদেশীও যুক্ত হয়েছে, কারণ শিক্ষা নিয়ে কানাডাতে বানিজ্য করার কোন সুযোগ নেই। কানাডায় যদি কোন স্কুলশিক্ষক স্কুলের বাইরে টাকার বিনিময়ে কাউকে পড়ায় এবং এই তথ্যটি যদি কর্তৃপক্ষের কানে যায়, তাহলে ঐ শিক্ষকের চাকরী যাবে নিশ্চিত। তাই হয়তো কিছু নীতি ভ্রষ্ট মানুষ দেশীয় কিছু মুনাফাখোরের সাথে মিলে এই অনৈতিক বানিজ্যে লিপ্ত হয়েছে। আর এই বানিজ্যের ফাঁদে পা দিচ্ছে কিছু পয়সাওয়ালা, যাদের পয়সার প্রাচুর্য্য বেড়েছে অল্পশ্রমে বা বিনাশ্রমে। এই দূরদেশে বসে বসে তাই কপালে হাত চাপড়ানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই- হায়রে আমার দেশ। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিস্কার হবে। ওন্টারীওতে একটা প্রাইভেট কলেজ আছে, যার নাম ডেভরাই ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজী। সেখানে প্রতি সেমিস্টারে সর্বোচ্চ টিউশন ফি প্রায় ২১০০ ডলার, সেখানে পাবলিক কলেজে সর্বোচ্চ টিউশন ফি ১৬০০ ডলার প্রতি সেমিস্টারে। পার্থক্য খুব বেশী না এবং একটা সরকারী নীতিমালার মাধ্যমে এই পার্থক্যটাকে নিয়ন্ত্রন করা হয়। তাহলে বুঝুন শিক্ষা-বানিজ্যের ভয়াবহতা কোথায় গিয়েছে বাংলাদেশে।

সেই কবে ছোটবেলায় সবুজ সাথী হাতে নিয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেছিলাম। তারপর একদিন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ নিয়েও বেরিয়েছি। এই দীর্ঘ্য জ্ঞান-যাত্রায় আমার হতদরিদ্র বাংলা-মা আমাকে অনেকটা বিনাপয়সায় শিক্ষার ব্যবস্থাটা করে দিয়েছিল। এসব ভাবতে গেলে আজও এই বিদেশের মাটিতে বসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। ভাবি, আমি তো কম শিখিনি। কিন্তু আজকের ছেলে মেয়েদের এই কি অবস্থা দেখছি। মাঝে মাঝে তুলনা করে দেখি শিক্ষায় বিদেশীদের থেকে আমি তো কোন অংশে কম নই। তাই হাড়-মাংশ মাটি করা পয়সা সেই মায়ের কথা স্মরণ করে দেশে চলে যায়। দেশে ছাড়া আর কোথাও বিনিয়োগের কথা মনে আসে না। কিন্তু আজ ওখানে কি দেখছি, কি শুনছি? শিক্ষার জগতে নিয়ন্ত্রনহীনতা আমাদের তাহলে কোথায় নিয়ে যাবে? যে শিক্ষা ব্যবস্থা আমি নিজের জন্যে কোন কালে কল্পনা করিনি, তা আমার ছেলেমেয়েদের জন্যে বা আগামী প্রজন্মের জন্যে আমি কিভাবে মেনে নেব? যে শিক্ষা শুধু নিজের একটা পেশা তৈরীতে সাহায্য করে সেই শিক্ষার কোন মুল্য নেই। এই শিক্ষা শুধু স্বার্থপর ব্যক্তিগত উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সমাজ ও পৃথিবীর কোন কাজে আসে না। এই রকম একটি শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশে চালু হয়েছে। তাই ওই শিক্ষার মাধ্যমে মানবিক মানুষ তৈরীর পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এই কারনেই হয় তো রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে, আভ্যন্তরিন ভোক্তার প্রতিযোগিতা বেড়েছে, শোষনের মাত্রাও তীব্র হয়েছে। এই সবই আমাদের শিক্ষার মাধ্যমে এসেছে। তাই মানব উন্নয়ন বলতে যা বোঝায় তা কিন্তু হচ্ছে না, যা হয়েছে তা হলো মানব শোষনের বিভিন্ন হাতিয়ারের উন্নয়ন। শিক্ষা লাভের অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি। কোন কোন দেশে মানুষের এই অধিকারটি সম্পুর্ন রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রীত হয়ে থাকে। আবার কোন কোন দেশে এই নিয়ন্ত্রনটা কিছুটা শীতিল। উন্নত সামান্য কয়েকটি দেশে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে বানিজ্যকরন মুক্ত করে এটিকে সম্পুর্ণ ভাবে নাগরিক মৌলিক অধিকারের মধ্যে আনতে পেরেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ এর অন্তর্ভুক্ত। তবে এইসব দেশ গুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ড শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান ধরে রেখেছে বেশ কয়েক বছর যাবত। তাছাড়া হংকং, সিঙ্গাপুর,দক্ষিন কোরিয়া সহ এই দেশগুলোও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। তবে উচ্চশিক্ষকে সম্পুর্ণ ভাবে বানিজ্যকরনের বাইরে রাখা পৃথিবীর অনেক দেশের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এর কারন বহুবিদ। তবে আমি কানাডার শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটা তুলনা মুলক আলোচনা করতে চাই। তবে এই ক্ষেত্রে আমি কিন্ডারগার্ডেন থেকে ১২ গ্রেড পর্যন্ত আলোচনায় রাখবো। এই আলোচনার আগে আমি আমার নিজস্ব একটা অভিজ্ঞতার কথা বলতে চাই। ৭-৮ বছর আগে বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান লাভের জন্য আমি কানাডার শিক্ষা বোর্ডের শরণাপ্নন হই। যদিও এর পিছনে আরেকটি কারন ছিল তাহলো চারবছরের একটা আন্ডার গ্রাজুয়েশনে ভর্তি যার প্রিরিকুয়িজিট হওয়া লাগবে ১২ গ্রেডের ম্যাথ, বায়োলজি, ক্যামিসট্রি। সারা জীবন আমি ছিলাম কলা বিভাগের ছাত্রী। বিজ্ঞান বিষয়ে আমার তেমন কোন জ্ঞান ছিল না। এই বয়সে এসে সেই কাজটি শুরু করলাম। শুরু করার আগে শিক্ষা বোর্ডের অধিনে আমার দুটো পরীক্ষা হলো। সারা জীবনের সংগৃহীত আমার সমস্ত সার্টিফিকেট জমা দেওয়া লাগলো। এর পর তিন ঘন্টার একটা পরীক্ষা হলো। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্ধারিত হলো আমি কোন গ্রেড থেকে শুরু করবো। কর্ম জীবনের একটা রেজুমি দেওয়া লাগলো। এই সব কিছুই শিক্ষার একটা অংশ হিসাবে বিবেচিত, যা আমার জানা ছিল না। এই সব দেখিয়ে বেশ কিছু ক্রেডিট অর্জিত হলেই বিজ্ঞান বিষয়ে ভাল ভাবেই পড়া লাগবে। গ্রেড ১১ থেকে শুরু হলো আমার স্কুল জীবন। আমার এই পড়াশুনা দেখে বাঙালীদের মধ্যে হাসি তামাশা শুরু হয়েছিল। মাস্টার ডিগ্রী পাশ করা একটা মেয়ে কেন হাইস্কুলে ভর্তি হবে এর কারন আমি তাদের না জানিয়ে আমার মত করে সায়েন্স বিষয়ে পড়াশুনায় মনোযোগ দেই। এই লেখাপড়াটি আমার জীবনে অনেক কাজে লেগেছে।আমাদের দেশের কলা বিভাগের ছাত্র ছাত্রীরা জীবনের একটা অংশ যে বিজ্ঞান, সেই বিষয়ে সারা জীবন একেবারেই অজ্ঞ থেকে যায়। সেই অজ্ঞতা কিছুটা ঘোচাতে পারি এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। এখানকার হাইস্কুল ডিপ্লোমা নিতে হলে ৪০ ঘন্টার ভলেন্টিয়ার কাজও দেখাতে হবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ৪০ ঘন্টা ম্যাথ টিউটর হিসাবে হাইস্কুলের ছেলে মেয়েদের ম্যাথ শিক্ষা দিয়েছিলাম। আর মনে মনে ভেবেছি জীবনটা আমার ধন্য হয়েছে আজ আমি ম্যাথ শিখাতে পারছি। আসল ব্যাপার হলো কলা বিভাগের ছাত্রী হলেও অংকের জ্ঞানটা আমার আগের থেকেই একটু উপরের দিকেই ছিল। তবে ক্যালকুলাস শিখতে অনেক কষ্ট হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো আমার ঘরের লোকটি হলো ক্যালকুলাসের জাহাজ। তার সহায়তায় কিছুটা শিখা হয়েছিল। এই ভাবেই আমি ১ বছরের মধ্যে আমি বিজ্ঞান বিষয়ে হাইস্কুল ডিপ্লোমা শেষ করলাম। বিজ্ঞান বিষয়ে সাধারন জ্ঞান যে জীবনের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ তা এই প্রতিষ্ঠানে না আসলে কিছুতেই বুঝতে পারতাম না। এর পর আমি আমার মেয়ের স্কুলে প্রায় দুবছর ভলেন্টিয়ার কাজ করি যার ফলে এখানকার শিক্ষা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমি কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা করতে চাই। এখানকার কিন্ডার গার্ডেন থেকে ছেলে মেয়েদের বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। আর এই প্রচেষ্টা চলে ৭ বছর পর্যন্ত। গ্রেড ১ থেকেই একটি বাচ্চা মোটামুটি বই পড়ার উপযুক্ত হয়ে যায়। প্রতিটি বাচ্চার জন্য একটি লগ বুক মেইন্টেন করা হয়। যার মাধ্যমে একটি হিসাব থাকবে প্রতি দিন সে কি কি বই পড়ছে। বইয়ের নাম, লেখকের নাম এবং বইয়ের বিষয়বস্তু এইগুলো লগ বইয়ে থাকে। এই বইগুলো সবই পাঠ্য পুস্তাকের বাইরে। তা ছাড়া ক্লাসের কারিকুলাম থাকলেও কোন নির্দিষ্ট পাঠ্য পুস্তাক নেই। কম পক্ষে ২৫টি বই পড়া লাগবে। এই বইগুলো স্কুল থেকে যোগান দিয়ে থাকবে। ক্লাসের বাইরে একটি বাচ্চা বছরে প্রায় ৫০ টা বই পড়ে থাকে। তাহলে কত অজানা জিনিসই না তার জানা হয়ে যায়। তবে এখানে শিক্ষক দ্বারা নির্ধারিত হয়ে যায় যে একটি বাচ্চা কোন লেবেলের বই পড়ার উপযুক্ত হয়েছে। এই ভাবে রিডিং লেবেলের ৪টি ভাগ রয়েছে। এখন আমি আমাদের দেশের দিকে তাকাতে চাই। আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা পাঠ্য পুস্তাকের বাইরে বছরে কয়টা বই পড়ে থাকে তার হিসাব বের করলেই লেখা পড়ার অবস্থা বোঝা যাবে। তাদের মধ্যে কোন বই পড়ার অভ্যাস নেই। এমন কি তারা বছরে একটা বইও পড়ে না। এখন আমি কানাডার গ্রেড টেনে পড়া একটি ছাত্রীর সাহিত্য পাঠ সম্পর্কে কিছুটা ধারনা দিতে চাই। আমার মেয়ে গ্রেড টেনে পড়ে। তাকে আমি সাহিত্য সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করি। তারপরে সে আমাকে একটি লিষ্ট দেয় সাহিত্য বিষয়ে কি কি পড়েছে এবং জানা হয়েছে।1. Science fiction—The Hunger game series.2. Fantasy—The Percy Jackson series.3. Realistic fiction—The perks of a wall flowers.4. Horror—Stephen King.(author)5. Mystery—Conan Doyle (author)6. Romance—Nicholas Sparks.7. Thriller—The girl with the dragon tattoo.8. Auto-Biography—Anne Frank.9. Graphic Novel—Jeff Smith Stan Lee 10. Classical. Tragedy—The Fault our stage.12. Science fiction—Day after tomorrow.13. Dystopian future.14. Utopian future.15. comic book—The bone series.16. Realistic fiction—Romance tragedy. 17.Historical fiction—Pope Joe

লিটারেচার বা সাহিত্যের পাঠ থেকে শিক্ষক ছাত্রের কাছ থেকে যা আশা করে বা Expectation করে তার একটা গ্রস তালিকা এমনঃ1. Reading for Meaning: read and demonstrate an understanding of a variety of literary, informational,and graphic texts, using a range of strategies to construct meaning;2. Understanding Form and Style: recognize a variety of text forms, text features, and stylistic elements and demonstrate understanding of how they help communicate meaning;3. Reading With Fluency: use knowledge of words and curing systems to read fluently;4. Reflecting on Skills and Strategies: reflect on and identify their strengths as readers, areas for Improvement, and the strategies they found most helpful before, during, and after reading.সাহিত্য বিষয়ে জানার আগ্রহ থেকে আমার মেয়ের কাছ থেকে এই লিষ্ট পাই। এখন বাংলাদেশে গ্রেড ১০ পড়ুয়া একটা ছাত্র বা ছাত্রীকে সাহিত্য বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করে দেখুন তো কি উত্তর পাওয়া যায়। আমি তাদের কাছ থেকে পাঠ্য পুস্তকের বাইরে সাহিত্য বিষয়ে কোন উত্তর পাইনি। এতেই প্রমানিত হয় আমাদের দেশের ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার মান কতটা নীচে নেমেছে। তাদের জ্ঞানের সীমানা পাঠ্য বইয়ের বাইরে বের হতে পারেনি। ক্লাসে পড়া নাকি এত বেশী যে বাইরের বই পড়ার তাদের সময় নেই। ভবিষ্যতে এই প্রজন্মের কাছ থেকে আমরা কি আশা করতে পারি? ক্লাসে এখন ধর্ম বিষয়ে অনেক জ্ঞান দেওয়া হয়। সেই বিষয়ে আমি আর যেতে চাই না।সাহিত্যের মধ্যে আরেকটি বিষয় আছে তা হলো মিডিয়াএটি সাহিত্যের একটি অংশ যার মাধ্যমে শেখানো হয় পন্যের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও কৌশল। কি ধরনের পন্যের ভাষাগত আর্ট উপস্থাপনার আর্ট কেমন হবে, কি ভাবে একে আরো আকর্ষনীয় করা যায় সেই বিষয়ে জ্ঞান দেওয়া হয়। এই মিডিয়া নামক শিক্ষা বিষয়টি আজও আমাদের পাঠ্যপুস্তাকে সংযোগ হয় নি। সাহিত্য পার্টটিকে এখানে ভাষা সংক্রান্ত বিষয় বলা হয়। আমাদের দেশের ছেলে মেয়েদের উপন্যাসের চরিত্রের উপর বেশী জোর দেওয়া হয়। কানাডাতে ছেলে মেয়েদের শেখানো হয় নবেলের মধ্যে যে সব চরিত্রগুলো রয়েছে সেই সব চরিত্রের সংগে বাস্তব জীবনের কানেকশন তৈরী করা শেখানো হয়। যার মাধ্যমে নতুন নতুন আইডিয়া তৈরী করা শিখে ফেলে। আমরা ভাষার থেকে গ্রামার বেশী জানি কারন আমাদের দেশে ছেলে মেয়েদের গ্রামার অনেক শেখানো হয়। এখানে ক্লাসে তেমন কোন গ্রামার শেখানো হয় না। এর কারণ কি তা আমার জানা না থাকলে আমার কাছে এর একটি ব্যাখ্যা রয়েছে। ভাষা একটি চলমান ধারা। গ্রামারের মাধ্যমে এই চলমান ধারাকে আটকিয়ে রাখা উচিত না। অর্থাৎ ভাষার জন্যই গ্রামার গ্রামারের জন্য ভাষা নয়। এই কারনেই হয়তো স্কুলে গ্রামারের উপর জোর দেওয়া হয় না। এখন আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা কি শিখছে তা জানতে পারলেই এখানে দেওয়া তথ্যের সাথে কমপেয়ার বা তুলনা করা যেতে পারে।


“দুই”

কানাডার শিক্ষা ব্যবস্থাটি অনেকটা বানিজ্যিক কেন্দ্রীক। তবে এই বানিজ্যিক কেন্দ্রীকতা শুরু হয়েছে বার ক্লাসের পরে। অর্থাৎ হাই স্কুলের পরে পড়াশুনার খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়। পৃথিবীর খুব গুটি কয়েক দেশেই শিক্ষা বিনা পয়সায় দেওয়া হচ্ছে। অর্থাত জনগনকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব সরকার নিজেই নিয়েছে। এই দেশ গুলো হলো- সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জার্মান। এই দেশ মানব সম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ ভুমিকা রয়েছে। কানাডার শিক্ষার মান অনেক উন্নত। কানাডার শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার মান ৬তম। যদিও উচ্চ শিক্ষার খরচ ব্যক্তিকেই বহন করতে হয়।

কানাডায় জুনিয়ার কিন্ডার গার্ডেন থেকে ক্লাস শুরু হয়। চার/পাচ বছর থেকে পড়া শুনা শুরু হয়। দু বছর জুনিয়ার ও সিনিয়ার শেষ করে গ্রেড অন থেকে সত্যিকারের লেখা পড়া শুরু হয়। সত্যিকারের পড়া শুনা বলেছি এই কারনে যে প্রথম দু বছর খেলা ধুলার মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে কিছুটা পরিচয় দেওয়া হয়। এখানে স্কুল দু ভাগে বিভাক্ত।
1. মাধ্যমিক স্কুল (meddle school JK – grade 8)
2. উচ্চ বিদ্যালয় (high school grade 9 – grade 12)
3. ক্যাথোলিক স্কুল।(ধর্মীয় স্কুল)
এছাড়া আরো অন্যান্য স্কুল আছে।
যেমন-
1. বিশেষ স্কুল (especial school)
2. ফ্রেন্স স্কুল (medium French)
3. Gifted স্কুল
4. বয়স্ক স্কুল (adult school)

এই ভাবে স্কুলগুলো ভাগ করা হয়েছে। স্কুলের কারিকুলাম দেখলে বুঝা যায় যে পড়াশুনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি। ক্লাসে কোন পাঠ্য পুস্তক নেই। তবে হাই স্কুলের শিক্ষকরা কিছু কিছু বই অনুসরন করে। তবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া নেই যে এই বই পড়তে হবে। এই ব্যবস্থাটি কারনেই শিক্ষার পদ্ধতিতে রয়েছে বহুবিদ মাধ্যম। কোন একটি বইয়ের মধ্যে যেন সীমাবদ্ধ না থাকে। তবে প্রতিটি গ্রেডের জন্য কিছু এস্পেক্টেসন আছে। এখানকার দ্বিতীয় ভাষা ফ্রেন্স। তাই গ্রেড ফোর থেকে ফ্রেন্স ভাষা শেখানো হয়। বিশেষ স্কুলে অটিষ্টিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ভর্তি করানো হয়। গিফটেড স্কুলে সেই সব শিক্ষার্থীদের জন্য যাদের ভিতরে জিনিয়াস কিছু রয়েছে। শিক্ষকের রিকমেন্ডেশন থাকলে যে কোন সময় গিফটেড স্কুলে ভর্তি হওয়া যায়। এর পাশা পাশি হাইস্কুলে আরো একটা প্রোগ্রাম রয়েছে, সেটা হলো এপি প্রগ্রাম (Advanced Placement Program)এটা যে সব ছেলে মেয়েরা খুব ভালো স্কোর তুলেছে শুধু তাদের জন্যে এবং এটি শুরু হয় গ্রেড নাইন থেকে। হাইস্কুল গ্রাজুয়েশনের পর যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে এই এপি প্রোগ্রামটি তাদের কাজে আসে। এপি প্রোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্রেডের প্রথম বর্ষের কিছু কোর্স এই ভাবে হাইস্কুলে পড়িয়ে নেয়া হয়, তাতে করে ঐ কোর্সগুলো তাদের আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেয়ে নেয়া লাগে না। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় এই ক্রেডিট ট্রান্সফার এলাউ করে না। তবে হাইস্কুলে কোর্সগুলো ফ্রি করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু পয়সা সাশ্রয় হয়।

গ্রেড ৩,,,১০ তে একটা প্রভিনসিয়াল EQAO টেষ্ট হয়। যার মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীদের অংক ও ভাষাগত জ্ঞান কতটা তা যাচাই করা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ট্যুর রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারে। মু্খস্থ পদ্ধতির প্রচলন একে বারেই নেই। নামত্তা গুলো কালারিং বা ছকের মাধ্যমে সেখানো হয়। এখানকার শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো সৃজনশীলতা বৃদ্ধি। ক্লাসে একজন আরেক জনের রেজাল্ট কখনো জানতে পারে না। শিক্ষক এটি সব সময় তা গোপন রাখে। শিক্ষার দক্ষতা ও কাজের অভ্যাসের উপর ও মার্কিন আছে। যেমন-
1. Responsibility
2. Independent work.
3. Initiative
4. Organization.
5. Collaboration.
6. Self- regulation.

এই মার্কিং গুলো এই ভাবে দেওয়া হয় E-Excellent, G-Good, S-Satisfactory, N- Needs improve

চার মাস পর পর রেজাল্ট দেওয়া হয়। এই রেজাল্ট উপর আলোচানার জন্য শিক্ষক ও পিতা মাতার মধ্যে একটা আলোচনা হয়। গ্রেড ফোর থেকে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান (health science) পড়ানো শুরু হয়। এটি যৌন বিজ্ঞান। কি ভাবে মানুষের জন্ম হয়, কি ভাবে বাচ্চাদের উপর যৌন অত্যাচার চলতে পারে সেই সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়। এই সব কাজে কি কি অসুখ বিসুখ হতে পারে এবং তার থেকে বাচার জন্য কি কি প্রতিরোধ নেওয়া যায় এই সব বিষয় নিয়ে এই বিষয়টি সাজানো হয়েছে।

কিন্ডার গার্ডেন থেকে শুরু হয় প্রানী ও গাছ গাছালি সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া। গ্রেড ৪-৫ থেকে শুরু হয় শক্তি বা এনার্জি সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া। কি কি ধরনের এনার্জি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেই এনার্জি কি ভাবে তৈরী হচ্ছে। আর কি কি ধরনের এনার্জি পরিবেশ বান্ধব এবং কোন কোন দেশে পরিবেশ বান্ধব এনার্জি বেশী ব্যবহৃত হয়, এই সব এনার্জির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি সে সম্পর্কে যে জ্ঞান দেওয়া হয় তা আমাদের দেশের ৮-৯ ছেলে মেয়েরাও জানে না। তেমনি Heat, sound, Matter, Space, All systems of human body, Light ইত্যাদি বিষয়ে অনেক জ্ঞান দেওয়া হয়। তবে এই সব কিছু পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর এর প্রভাব ও প্রয়োগের উপর বেশী জোর দেওয়া হয়। এই বিষয়ে আরো ভাল ভাবে জানার জন্য গ্রেড ৮ এর বিজ্ঞান বিষয়ে কারিকুলাম আলোচনা করার দরকার।

আমি শুধু একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। যেমন কোষ বা সেল। Big Idea:
1. Cell is the basic of life.
2. Cell organizes into tissue, tissue into organ, organ into organ system, and organ systems into organism.
3. Healthy cell contributes to healthy organism
4. Systems are independent.
এই সেল পড়াতে গিয়ে দুটো বিষয় পড়ে। তা হলো
1. Systems and instruction.
2. Structural and function.
এত কিছু পড়ানোর পরে ছাত্র ছাত্রীর কাছে কি এক্সপেক্টশন হবে তা দুভাবে বলা যায়।
Overall Expectation.
Specific Expectation.
Overall expectation এর তিনটা বিষয় হতে পারে। যেমন
1. Assess the impact of cell biology on individual, society and the environment.
2. Investigate function and process of plant and animal cell.
3. Demonstrate and understanding of basic structure and function of plant and animal cell.

এই হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য যার মাধ্যমে কোষ বা সেল সম্পর্কে অনেক কিছু পড়ানো হয়। এখন একটা উদাহারন দেওয়া যেতে পারে। ধ রা যাক আমার topic এর মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে — Relating society and technology to society and the environment.
1. Assess the role of selected technology—
E.G- The development of electron microscope,
The ability to infuse dyes into cells, the in-vitro fertilization, in enhancing our understanding of cell and cellular process.
Sample of question:
1.How have electron microscope helps our understanding of cell and cell process?
2. What are disadvantages of using this technology?
3. How might infusing dye into cell be a useful tools for diagnosing and /or treated diseases or for understanding how cell works?

এই ভাবেই এই প্রশ্ন গুলোকে সামনে রেখে একজন শিক্ষক ক্লাস ৮ ছেলে মেয়েদের ক্লাস সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে থাকে। এখানে কোন নির্দিষ্ট বই থাকে না। ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন বই থেকে এই বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারে। তবে ক্লাসে শিক্ষকরা প্রিন্টং পেপের দিয়ে থাকেন।

এখন Specific expectation থেকে একটা sample question নিয়ে নাড়াচাড়া করলেই দেখা যাবে সেখানে কি পাওয়া যায়।

1. How might the understanding of cells and the cell processes help in treating disease? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাকে কত দূর পর্যন্ত পড়া লাগবে? এই প্রশ্নটি গ্রেড এইটের কারিকুলাম থেকে নেওয়া হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরটি আন্ডারগ্রাজুয়েশন পর্যন্ত কভার করে। কিন্তু আমি ৮,,১০,১১,১২ পর্যন্ত একটু একটু করে বিষয় ভিক্তিক পাঠ দিবো। একজন শিক্ষকই তা ঠিক করবেন কিভাবে তিনি তার ছাত্র ছাত্রীদের এই জ্ঞানটুকু দিতে পারবেন।

এই হচ্ছে ক্লাস এইটের পড়ুয়া একটি বাচ্চার সেল সম্পর্কে জ্ঞান লাভের প্রসেস। এখন আপনারাই দেখুন আমাদের দেশে পড়ুয়া একটি বাচ্চাকে সেল সম্পর্কে কি জ্ঞান দেওয়া হচ্ছে? সেই জ্ঞানের ভিক্তিতে তারা সমাজ সম্পর্কে কতটা সচেতন হচ্ছে? নিজ সম্পর্কে কি ধারনা হচ্ছে?বহিঃবিশ্বের সম্পর্কে কি ধারনা হচ্ছে? এই উত্তর গুলোর মাধ্যমেই আমাদের দেশের লেখা পড়ার মান বের করতে পারবেন। আমি অনেক ছেলে মেয়েদের যাচাই করে দেখেছি আন্তঃজার্তিক মানদন্ডে বিজ্ঞান বিষয়ে তাদের জ্ঞান এত কম যা অবাকই করার মত। আমাদের দেশের লেখা পড়ার উদ্দেশ্য হলো গল্ডেন জিপিএ। সেটাই অর্জিত হয়েছে তাই মান উন্নয়ন আর হয় নি।

রওশন আরা বেগম